Category Archives: Al-Quran

With English and Bengali Translation

Image

যুজ আম্মা (পারা# ৩০) । তাফসীর ইবনে কাসীর | অনুবাদঃ ডঃ মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান

juz-amma-tafseer-ibn-kathir-09

Full Course | Understand Quran and Salaah Easy Way | illustrated | 100 Episodes – (3 minutes/each lecture)

To recite before starting a Sermon

To recite before starting a Sermon


Download PDF: To recite before starting a Sermon

আয়াতুল কুরসি আল্লাহর অপূর্ব দান

6CDF4CC0-065C-4D3A-BC62-B79F0FEE2CA3

পবিত্র কোরআন মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার বাণী। যা মানুষের প্রয়োজনের জন্য নাজিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আল্লাহ শুরুতেই এর সত্যায়ন করেছেন যে, এ কিতাবে কোনো সন্দেহ সংশয় নেই। কোরআনের মধ্যে এমন কোনো কিছু নেই যা মানবজাতির কল্যাণে লিপিবদ্ধ হয়নি। এ জন্যই আল্লাহ এ কোরআনকে মানব জাতির হিদায়াত ও জীবন বিধান হিসেবে নাজিল করেছেন। পাঠকদের জন্য আজ আয়াতুল কুরসির ফজিলত তুলে ধরা হলো-

আয়াতুল কুরসি কোরআনুল কারিমের সবচেয়ে বড় সূরা ‘সূরা আল-বাক্বারার ২৫৫ তম আয়াত’। যা সমগ্র কোরআনের সবচেয়ে বড় আয়াতও বটে। এ সূরার রয়েছে অনেক ফজিলত। এর ফজিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ওবাই ইবনে কা’বকে জিজ্ঞাস করলেন সবচেয়ে ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াত কোনটি? ওবাই ইবনে কা’ব আরজ করলেন, সেটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থন করলেন এবং বললেন, হে আবুল মানজার! তোমাকে এ উত্তম জ্ঞানের জন্য ধন্যবাদ। (মুসনাদে আহমদ)

আয়াতুল কুরসির ফজিলত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক ফরজ সালাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোনো বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতিত। (নাসাঈ) শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে। (বুখারি) হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আয়াতুল কুরসি কোরআনের অন্যসব আয়াতের সর্দার বা নেতা। আয়াতটি যে ঘরে পড়া হবে, সে ঘর থেকে শয়তান বের হয়ে যাবে।যে লোক প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের একমাত্র বাধা হচ্ছে মৃত্যু। অর্থাৎ সে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বেহেশতের ফলাফল ও আরাম আয়েশ ভোগ করতে থাকবে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন দেখতে পেলেন একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করতেছে তখন তিনি আগন্তুকের হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব’। তখন আগন্তুক বলে যে সে খুব অভাবি আর তার অনেক প্রয়োজন। তাই দয়া করে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।পরদিন সকালে রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘গতকাল তোমার অপরাধী কী করছে?’ হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যি সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।’

পরদিন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অপেক্ষায়, যখন সে আবারো চুরি করতে আসল তখন তিন তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেল, ‘এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব।’ এবারও সেই বলে যে- সে খুব অভাবি আর তার অনেক প্রয়োজন আর শপথ করে যে আর আসবে না। পরদিন আবারো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন আর তখন তিনি বলেন, ‘আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।’

পরদিনও আবার হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারো চুরি করতে আসল তখন তিনি তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন ‘এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। তুমি বার বার শপথ করো আর চুরি করতে আসো।’ সে যখন দেখল এবার সে সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে যাবে তখন অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলে, ‘আমাকে মাফ কর।

আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা জানতে চাইলে চোর বলে, ‘যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহাড়াদার নিযুক্ত করবে, যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারবে না।’ এটা শুনে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহু আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, ‘তুমি কি জানো সে কে?’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,‘না’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন , ‘সে হচ্ছে শয়তান।’ (বুখারি)

আয়তুল কুরসী: اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম। (সূরা আল-বাক্বারা আয়াত-২৫৫)অর্থ: আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।

আয়াতের মর্যাদার কারণ: এ আয়াতটিতে ১০টি বাক্য রয়েছে। যার প্রত্যেকটি আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি, গুনাবলি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে- ১. তিনিই আল্লাহ যিনি ব্যতিত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো ইলাহ নেই। ২. আলহাইয়্যুল কাইয়্যুম- তিনি সদা জীবিত এবং বিদ্যমান। ৩. লা তা’খুজুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম- আল্লাহ তায়ালা তন্দ্রা ও নিন্দ্রা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ৪. লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি- আকাশ এবং জমিনের যা কিছু রয়েছে তার সবাই আল্লাহর মালিকানাধীন ৫. মানজাল্লাজি…বিইজনিহি- সৃষ্টি কোনো বস্তুই আল্লাহর চেয়ে বড় নয় বিধায় এমন কে আছে যে তাঁর সামনে তাঁর অনুমতি ব্যতিত সুপারিশ করতে পারে? ৬. ইয়া’লামু… খালফাহুম- মানুষের জন্মের পূর্বে এবং জন্মের পরের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা জানেন। ৭. ওয়ালা ইউহিতুনা…বিমাশা আ- সমস্ত সৃষ্টির জ্ঞান মিলে একত্রিত হয়ে আল্লাহর জ্ঞানের কোনো একটি অংশ বিশেষকেও পরিবেষ্টিত করতে পারে না। ৮. ওয়াসিআ’… ওয়াল আরদ্বি- তাঁর কুরসি এতো বড় যে, সাত আসমান ও সাত জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। ৯. ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা- আল্লাহর নিকট এত বৃহৎ দুইটি সৃষ্টি আসমান-জমিনের হেফাজত করা কোনো কঠিন কাজ নয়। ১০. ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম- তিনি অতি উচ্চ এবং অতি মহান।

এই পুরো আয়াতটিই আল্লাহর একত্ববাদ ও মর্যাদার গুণগান বিধায় আল্লাহ এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আয়াতুল কুরসির আমল করার এবং কোরআন অনুযায়ী জীব্ন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

 


(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।)

THE GREATEST MIRACLE OF ALL TIME – (ALLAH’S WORD)

কুরআন পাঠ সম্পর্কে কতিপয় হাদীস

hadith

কুরআন আল্লাহর বাণী। সৃষ্টিকুলের উপর যেমন স্রষ্টার সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম , তেমনি সকল বাণীর উপর কুরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অতুলনীয়। মানুষের মুখে থেকে যা উচ্চারিত হয়, তম্মধ্যে কুরআন পাঠ সর্বাধিক উত্তম। নিম্নে কুরআন পাঠের প্রতিদান সম্পর্কে কতিপয় হাদীস উপস্থাপন করা হল:

কুরআন শিখানোর প্রতিদান: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষাকরে ও অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।” (বুখারী)

কুরআন পাঠের প্রতিদান: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে একটি নেকী পাবে। আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমপরিমাণ।” (তিরমিযী)

কুরআন পাঠে যত্ম নেয়ার প্রতিদান: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে এবং তা মুখস্থ করবে (এবং বিধি-বিধানের) প্রতি যত্নবান হবে, সে উচ্চ সম্মানিত ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি কষ্ট হওয়া স্বত্বেও কুরআন পাঠ করবে এবং তার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবে সে দ্বিগুণ ছাওয়াবের অধিকারী হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কিয়ামত দিবসে কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কুরআন পড় এবং উপরে উঠ। যেভাবে দুনিয়াতে তারতীলের সাথে কুরআন পড়তে সেভাবে পড়। যেখানে তোমার আয়াত পাঠ করা শেষ হবে, জান্নাতের সেই সুউচ্চ স্থানে তোমার বাসস্থান।” (তিরমিযী)

ইমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন: হাদীসে এসেছে যে, জান্নাতের সিঁড়ির সংখ্যা হচ্ছে কুরআনের আয়াতের সংখ্যা পরিমাণ। কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি যতটুকু কুরআন পড়েছো ততটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠো। যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুরআন পড়েছে সে আখেরাতে জান্নাতের সর্বশেষ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাবে। যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু অংশ পড়েছে সে ততটুকু উপরে উঠবে। অর্থাৎ যেখানে তার পড়া শেষ হবে সেখানে তার ছওয়াবের শেষ সীমানা হবে।”

কুরআন শুপারিশকারী হবে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা কিয়ামতের দিবসে কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ কারী হবে।” (মুসলিম) তিনি আরও বলেন: ” কিয়ামত দিবসে সিয়াম ও কুরআন বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে।” (আহমদ, হাকেম হাদীস সহীহ দ্রঃ সহীহ তারগীব তারহীব হা/৯৮৪)

কুরআন নিয়ে পরস্পরিক আলোচনা-পর্যালোচনা করার প্রতিদান: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “কোন সম্প্রদায় যদি আল্লাহর কোন ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং তা পরস্পরে শিক্ষা লাভ করে, তবে তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে। আর আল্লাহ তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাদের সামনে তাদের কথা আলোচনা করেন।” (মুসলিম)

কিভাবে কুরআন পাঠ করবে? আনাছ বিন মালেক (রা:) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কুরআন পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: ”তিনি টেনে টেনে পড়তেন .” বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করার সময় ” বিসমিল্লাহ” টেনে পড়তেন. “আর রহমান” টেনে পড়তেন “আর রাহীম” টেনে পড়তেন।” (বুখারী)


Source: https://www.quraneralo.com/hadith-on-quran-recitation/

সালাতুল ইস্তেখারাহ

istikhara

সম্পাদক: 
নুমান বিন আবুল বাশার | প্রকাশনায়: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ

তোমার প্রভু হতে কল্যাণ চেয়ে নাও

জাবের রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে কোন কাজ করার পূর্বে ইসতেখারার নির্দেশ দিতেন। তাই ইসতেখারার দোয়া এরূপ গুরুত্ব দিয়ে মুখস্থ করাতেন যেরূপ গুরুত্ব দিয়ে মুখস্থ করাতেন কোরআনের সূরা। ইসতেখারার নিয়ম এই যে, প্রথমে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে উল্লেখিত দোয়া পাঠ করবে—যার অর্থ: হে আল্লাহ ! আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি। এবং আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা আপনি শক্তিধর, আমি শক্তিহীন, আপনি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন। এবং আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ ! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি উল্লেখ করবে) আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার পরিণতির ক্ষেত্রে অথবা ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণকর হয়, তবে তাতে আমাকে সামর্থ্য দিন। পক্ষান্তরে এই কাজটি আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দ্বীন, জীবিকা, ও পরিণতির দিক দিয়ে অথবা ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিকর হয়, তবে আপনি তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দিন। অত:পর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখুন। (অত:পর সে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে। [ সহীহ বুখারী ]

আভিধানিক ব্যাখ্যা

ইস্তিখাআরাহ বা  সূক্ষ্মতম  দ্বারা অর্থ আল্লাহ থেকে কল্যাণ চেয়ে নেওয়া। উদ্দেশ্য হল অপরিহার্য দুই বস্তু ভালটি কামনা করা।

প্রতিটি কাজে ইসতেখারা করা। শব্দটা ব্যাপক অর্থবোধক। তবে এখানে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হয়নি। কেননা, ফরজ, ওয়াজিব কাজ করার জন্য আর হারাম, মাকরূহ কাজ না করার জন্য ইসতেখারা হয় না। সুতরাং, ইসতেখারা শুধু মুবাহ বা জায়েজ কাজ করা না করা আর মোস্তাহাব বা উত্তম—দ্বি-অবকাশমুখী কাজের মাঝে কোনটি করবে তা নির্ণয়ের জন্য হয়ে থাকে। ইসতেখারার দোয়া শিক্ষাকে কোরআন শিক্ষার সাথে তুলনা করার কারণ হল কোরআন যেমন সর্বপ্রকার নামাজে প্রয়োজন তেমনিভাবে সর্বপ্রকার কাজে ইসতেখারাও প্রয়োজন। কোন কোন আলেম বলেছেন, এখানে শাব্দিক উদাহরণ উদ্দেশ্য ; অর্থাৎ কোরআন মজিদের প্রতিটি হরফ মুখস্থ করা ও গুরুত্ব সহকারে তা সংরক্ষণের ব্যাপারে যেমন গুরুত্ব দিতেন তেমনিই গুরুত্ব দিতেন ইসতেখারার দোয়া মুখস্থ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে। অর্থাৎ যখন কোন কাজের ইচ্ছা করে। কমপক্ষে দুই রাকাত নামাজ পড়বে। যদি কেউ ইচ্ছা করে তবে বেশিও পড়তে পারবে। তবে প্রতি দুই রাকাত এক সালামে হতে হবে। দুই এর অধিক রাকাত এক সালামে এই ক্ষেত্রে শুদ্ধ হবে না।

আপনার সর্বময় জ্ঞানের আলোকে যা কল্যাণকর আমি তা চাচ্ছি, যেহেতু আপনিই ভাল-মন্দ সব জানেন  আপনার নিকট সে কাজ করার সক্ষমতা প্রার্থনা করছি। এ বাক্য দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, কোন কাজে সফল হওয়া আল্লাহ তাআলার অনুকম্পা ও অনুগ্রহ ব্যতীত সম্ভব নয়। হাদিস বর্ণনাকারী এখানে সন্দেহ পোষণ করছেন, যে রাসূল সা. এর পরে হয়তো  বলেছেন কিংবা বলেছেন। বর্ণে পেশ ও জবর উভয় হতে পারে। অর্থাৎ কাক্সিক্ষত কাজ বিষয় আমার সাধ্য দিন ও সহজ করে দিন। যে কাজ আমার জন্য অমঙ্গলজনক আমাকে সে কাজ হতে বিরত রাখার সাথে সাথে অন্তরকেও সে কাজের আগ্রহ থেকে ফিরিয়ে রাখুন।

ইসতেখারার হাদিস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ

১) উম্মতের প্রতি রাসূলের অগাধ ভালোবাসা ও দয়ার জ্বলন্ত প্রমাণ এই যে, তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিলেন প্রত্যেক কাজের ভাল-মন্দ আল্লাহ তাআলা থেকে চেয়ে নাও এবং সম্পর্ক আল্লাহর সাথে রাখ।

২) ইসতেখারার দোয়া এ শিক্ষা দেয় যে, কোন মানুষ তার ব্যক্তিগত যোগ্যতায় তথা নির্ভুল পদক্ষেপ, সুউচ্চ জ্ঞান বৃদ্ধি, অর্থ সম্পদ, বংশ-মর্যাদা ও আধিপত্যের দ্বারা মন্দ কাজ থেকে বেঁচে গেলে ভাল-কাজ করার ক্ষমতা রাখে না। বরং মহান আল্লাহ যাকে চান সেই শুধু ভাল কাজ করতে পারে ও মন্দ কাজ থেকে বাঁচতে পারে। এ জন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বেহেশতের গুপ্ত ধনসমূহের একটি ধন।

৩) ইসতেখারা সর্ব কাজের সফলতার সর্বোত্তম উপায়। কেননা, এতে নম্রতা ও বিনয়ের সাথে মহান আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের  আকাঙ্ক্ষা ও অভাবনীয় শাস্তি থেকে মুক্তির প্রার্থনা জানানো হয়। যেহেতু তিনিই সর্ব কাজের অধিকারী, তাই তিনিই জানেন, প্রতিটি কাজের পরিণাম ফল কী হবে। তাই মানুষ ইসতেখারার মাধ্যমে তারই শরণাপন্ন হয়, যাতে সফলতার দিক নির্দেশনা পায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: “তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি-মিনতি করে ও সংগোপনে।” [ সূরা আরাফ : ৫৫ ]

৪) ইসতেখারা নামাজ ও দোয়ার সমন্বয়। সৌভাগ্যবান সে যে ইসতেখারা করে আর হতভাগা সে যে ইসতেখারা করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম সন্তানের সৌভাগ্যের বিষয়সমূহ থেকে একটি হল ইসতেখারা করা ও আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা। আর মানুষের দুর্ভাগ্য হল ইসতেখারা না করা ও আল্লাহর ফয়সালার উপর অসন্তুষ্ট থাকা। [ আহমাদ ১৩৬৭]

৫) এ হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসতেখারা শরিয়ত স্বীকৃত একটি এবাদত। এ আমল সে করবে যে শরিয়ত অনুমোদিত কোন মুবাহ বা হালাল কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে।—অথবা যে দ্বি-অবকাশমুখী মোস্তাহাবের উত্তমটি নির্ণয়ের ইচ্ছা করে। কেননা দ্বি-অবকাশমুখী মোস্তাহাব এবং ওয়াজিব কাজ আদায়ে হারাম ও মাকরূহ কাজ পরিহারে ইসতেখারা হয় না। হ্যা যদি কোন মাকরূহ পরিহার করাতে অপূরণীয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে সে মাকরূহ ছাড়া না ছাড়ার ব্যাপারে ইসতেখারা হতে পারে। যে সব কাজে ইসতেখারা হয় তন্মধ্যে—যেমন সফর, চাকুরি, বিয়ে ঘর বা দোকান ভাড়া ইত্যাদি।

৬) ইসতেখারার নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত এবং তা নফল। হ্যাঁ, যদি তাহিয়্যাতুল মসজিদের সাথে সাথে (যা মসজিদের প্রবেশের পর পর পড়া হয়) ইসতেখারার নিয়ত করলে এক সাথে উভয়টা আদায় হয়ে যাবে।

৭) হাদিসের বাহ্যিক দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে যে ইসতেখারার দোয়া নামাজের পরে হবে। কিন্তু কিছু সংখ্যক ওলামা বলেছেন নামাজের মধ্যেও হতে পারে। যেমন সেজদারত অবস্থায় ও শেষ বৈঠকে তাশাহুদ ও দরুদ শরীফের পর। হাদিসের বর্ণনায় বুঝা যাচ্ছে যে আগে নামাজ অত:পর দোয়া। তার কারণ, ইসতেখারা করার অর্থই হল ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়ে নেওয়া। আর আল্লাহর রহমতের দরজা খোলার জন্য নামাজতুল্য কোন এবাদত নেই। কেননা নামাজই একমাত্র এবাদত যাতে অনেক এবাদতের সমষ্টি রয়েছে। আল্লাহর প্রশংসা তার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব ও সর্ব শ্রেণির লোকের সর্বাবস্থায় মুখাপেক্ষীর উজ্জ্বল প্রমাণ।

৮) যে ব্যক্তি ইসতেখারা করবে সে অবশ্যই দোয়ার মাঝে তার প্রত্যাশিত বিষয় উল্লেখ করবে।

৯) বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন, ইসতেখারা করার পর তার মন যে দিকে ধাবিত হবে সে দিকেই যাবে। আর যদি কোন দিকে ধাবিত না হয় তা হলে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন দিক নির্দেশনা না পাবে, বা কোন দিকে মন ধাবিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসতেখারা করতে থাকবে।

এ হাদিসে আল্লাহর দুটি সিফাত বা গুণ প্রমাণিত হল। এক : এলেম বা জ্ঞানের সিফাত। দুই : কুদরত বা ক্ষমতার সিফাত। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হল যে, আল্লাহর নাম বা গুণের উসিলায় দোয়া করা শরিয়ত স্বীকৃত।

সমাপ্ত